শহরটা আলোয় ঝলমল করছে, কিন্তু নীলয়-এর কাছে সবটুকুই ধূসর। আজ মাসুমের চলে যাওয়ার ঠিক এক বছর। নীলয় একা বারান্দায় দাঁড়িয়ে পুরোনো একটা ডায়েরি হাতে নিয়ে ভাবছে।
দৃশ্য ১: স্মৃতির জানলা
গোধূলির আকাশটা আজ অদ্ভুত লাল। নীলয় কফির কাপে চুমুক দেয়, কিন্তু কোনো স্বাদ পায় না। ওর মনে পড়ে যায়, ঠিক এই সময়টায় মাসুম আসতো। ওর হাসিতে ঘরটা মুহূর্তেই সজীব হয়ে উঠতো।
নীলয় (মনে মনে): "পৃথিবীতে কত মানুষ, কত কোলাহল। অথচ আমার ভেতরে কেন এই খাঁ খাঁ মরুভূমি? তুমি যখন পাশে ছিলে, এক চিমটি রোদও ছিল উৎসব। আর আজ এই পূর্ণিমার চাঁদটাও যেন একটা মরা পাথরের মতো লাগে।"
দৃশ্য ২: সেই পুরোনো ক্যাফে
নীলয় হেঁটে চলে সেই পুরোনো ক্যাফেতে, যেখানে তারা প্রথম দেখা করেছিল।
ক্যাফেতে গান বাজছে—মৃদু রোমান্টিক সুর।
এক কোণায় এক যুগল বসে হাসছে। নীলয় তাদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
নীলয় (বিড়বিড় করে): "মানুষ বলে পৃথিবীটা অনেক বড়। কিন্তু আমার পৃথিবীটা তো ওই তিন অক্ষরের 'তুমি' তেই সীমাবদ্ধ ছিল। তুমি হীনা এই পৃথিবী আমার কাছে ঠিক তেমন, যেমন মেঘ ছাড়া আকাশ কিংবা জলহীন নদী। সবাই বলে সামনে তাকাতে, কিন্তু আমার চোখ যে বারবার অতীতে গিয়ে আটকে যায়।"
দৃশ্য ৩: একটি চিঠি যা পাঠানো হয়নি
বাসায় ফিরে নীলয় তার ডায়েরিতে লিখতে শুরু করে।
নীলয়-এর লেখা: "প্রিয় মাসুম, আজ শহরটা খুব সেজেছে। কিন্তু আমার ভেতরটা কেন যেন মরুভূমির মতো রুক্ষ। তোমার সেই আলতো ছোঁয়া, তোমার অভিমানী ডাক—সবই এখন স্মৃতি। জানো, তোমার অভাবটা আমাকে প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয়, একটা মানুষ কীভাবে আরেকটা মানুষের অক্সিজেন হতে পারে। তুমি নেই, তাই আজ নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। তুমি হীনা এই পৃথিবী আমার কাছে কেবল এক বিশাল শূন্যতা।"
উপসংহার:
নীলয় ডায়েরিটা বন্ধ করে জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকায়। হয়তো মাসুম কোথাও নেই, আবার হয়তো সে ওই আকাশের ধ্রুবতারা হয়ে নীলয়-এর দিকে তাকিয়ে হাসছে। ভালোবাসা এমনই—একজন চলে গেলেও তার রেখে যাওয়া শূন্যতা আস্ত একটা পৃথিবীকে মরুভূমি করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
মন্তব্য