নিম্ন
ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য তেলের দাম
বাড়লে সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে
কৃষিখাতে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা তেলের
ওপর দুইভাবে নির্ভরশীল: সরাসরি সেচ
ও যান্ত্রিকীকরণের
জন্য ডিজেল ব্যবহার এবং পরোক্ষভাবে রাসায়নিক
সারের প্রধান উপাদান হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের ব্যবহার
।
রাসায়নিক
সার উৎপাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ
জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে আন্তর্জাতিক
বাজারে তেলের দাম বাড়লে সারের
দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের
পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি ও ইনপুট খরচের
আধিক্যের কারণে সারের দাম 7% বৃদ্ধি পেতে পারে ।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ক্ষুদ্র কৃষকরা যখন চড়া দামে
সার কিনতে পারে না, তখন
ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর ফলে
বাজারে খাদ্যের সরবরাহ কমে যায় এবং
খাদ্য মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।
তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যমূল্যে 10% বৃদ্ধি ঘটলে মধ্যম বা
গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা 3.5% বৃদ্ধি পায় ।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়, সেচ ব্যবস্থা মূলত ডিজেল চালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে প্রায় 80% সেচ পাম্প ডিজেলে চলে । তেলের দাম বাড়লে কৃষকের সেচ খরচ বৃদ্ধি পায়, যা ধানের মতো সেচ-নিবিড় ফসলের উৎপাদন খরচকে বাড়িয়ে দেয়। ২০২২ সালে বাংলাদেশে জ্বালানির দাম এক লাফে ৫০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর ফলে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছিলেন ।
|
ইনপুট (Input) |
মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব |
কৃষকের ওপর ফলাফল |
|
ডিজেল (Diesel) |
সেচ ও ট্রাক্টরের খরচ সরাসরি বৃদ্ধি পায় । |
নিট লাভ হ্রাস ও ঋণের বোঝা। |
|
সার (Fertilizer) |
সারের প্রাপ্যতা কমে যায় ও দাম বাড়ে । |
ফসলের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া। |
|
পরিবহন (Transport) |
খামার থেকে বাজারে পণ্য নেওয়ার খরচ বাড়ে । |
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও কম মুনাফা। |
এই সংকটের একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার (SPIS) কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও এর প্রাথমিক স্থাপনা ব্যয় বেশি, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষকদের জ্বালানির অস্থিরতা থেকে মুক্তি দিতে পারে । সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং বাংলাদেশে সৌর সেচ পাম্প ব্যবহার করে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি কৃষকের আয় দ্বিগুণ করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ।
কৃষি খাত (ক্ষুদ্র খামার) উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় ছদ্ম-বেকারত্ব বৃদ্ধি ।
মন্তব্য