রাত হলেই রুদ্র ছাদের কোণায় বসে পড়ে। শহরের আলো তার চোখে লাগে না, লাগে শুধু মনে।
এই ছাদেই বসে একদিন মেঘলাকে সে বলেছিল,
“তোমার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি। এক চিমটি ভালোবাসা-
মেঘলা হেসেছিল। বিশ্বাস করেনি, নাকি বিশ্বাস করেও ভয় পেয়েছিল-
রুদ্র কখনো জানত না।
রুদ্র সত্যিই সবকিছু করেছিল।
নিজের স্বপ্ন ছাড়ে, চাকরিটা বদলায়, বন্ধুদের দূরে সরিয়ে দেয়।
মেঘলার একটা হাসির জন্য সে দিনের পর দিন নিজের কষ্ট লুকিয়েছে।
মেঘলার চোখে জল দেখলে, রুদ্রের বুক ফেটে যেত কিন্তু সে কিছু বলত না।
মেঘলা বলত,
``তুমি খুব ভালো মানুষ, রুদ্র।‘’
এই কথাটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।
একদিন মেঘলা এসে চুপচাপ বলল,
আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।
রুদ্র কিছুক্ষণ কিছুই বলল না।
তারপর খুব শান্তভাবে জিজ্ঞেস করল,
সে কি তোমাকে সুখী রাখবে
মেঘলা মাথা নেড়ে বলেছিল, -হ্যাঁ।
রুদ্র সেদিন প্রথম বুঝল
ভালোবাসা মানে পাওয়া না,
ভালোবাসা মানে কাউকে সুখী দেখতে পারা,
নিজে ভেঙে গিয়েও।
মেঘলা চলে গেল।
রুদ্র ,ইল-ছাদ, রাত, আর না বলা হাজারটা কথার সাথে।
আজও কেউ জিজ্ঞেস করলে সে বলে,
আমি ভালো আছি।
কিন্তু কিছু ভালোবাসা এমনই
সবকিছু দেওয়া যায়,
শুধু মানুষটাকে পাওয়া যায় না।
মেঘলা চলে যাওয়ার পর রুদ্র আর ছাদে ওঠে না।
ছাদে গেলে স্মৃতিগুলো খুব জোরে কথা বলে।
একদিন হঠাৎ খবর আসে
মেঘলার বিয়ে হয়ে
গেছে।
রুদ্র সেদিন কোনো কষ্ট প্রকাশ করে না।
শুধু রাতে ডায়েরির শেষ পাতায় লেখে,
আমি তাকে পেয়েছিলাম না
কিন্তু ভালোবাসায় কোনো কমতি রাখিনি।
ডায়েরিটা বন্ধ করে সে আলো নিভিয়ে দেয়।
কিছু ভালোবাসা
শুধু বেঁচে থাকে-
ফেরার জন্য নয়,
মরে না বলেই।
মেঘলা আর ফিরে আসে না।
কিন্তু রুদ্র আর অপেক্ষাও করে না।
কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে
আমাদের সাথে থাকার জন্য নয়,
আমাদের বদলে দেওয়ার জন্য।
মন্তব্য