অতিরিক্ত
টাকা ছাপানো বা Expansionary Monetary Policy
যখন উৎপাদনশীলতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, তখন
তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বেশ কিছু ঝুঁকি তৈরি করে। এর মূল প্রক্রিয়াটি
নিচে সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
চাহিদা
ও জোগানের ভারসাম্যহীনতা: বাজারে যখন পণ্যের উৎপাদন বা সেবা না
বাড়িয়ে শুধু টাকার জোগান বাড়ানো হয়, তখন মানুষের হাতে প্রচুর নগদ টাকা চলে আসে। একই পরিমাণ পণ্য কেনার জন্য অনেক মানুষ প্রতিযোগিতা করে, ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যায় (ইনফ্লেশন)।
মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে আগের সমপরিমাণ টাকা দিয়ে আগের চেয়ে কম পণ্য কেনা
যায়। একেই আমরা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস বলি।
মুদ্রার অবমূল্যায়ন:
আন্তর্জাতিক বাজারেও তখন সেই মুদ্রার মান পড়ে যায়। ফলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যায়, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে
দ্রব্যমূল্যের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে।
দীর্ঘমেয়াদী
প্রভাবসমূহ:
১.
সঞ্চয়ের অবমূল্যায়ন: যারা দীর্ঘমেয়াদে টাকা সঞ্চয় করেন, মুদ্রাস্ফীতির কারণে তাদের সঞ্চিত অর্থের প্রকৃত মান কমে যায়।
২.
বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা: উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি থাকলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে ভয় পান, কারণ
ভবিষ্যৎ খরচ বা লাভের হিসাব
করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৩.
আয় বৈষম্য: সাধারণত স্থির আয়ের মানুষ এবং শ্রমিক শ্রেণি এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ তাদের আয় যে হারে
বাড়ে, দ্রব্যমূল্য বাড়ে তার চেয়ে দ্রুত গতিতে।
একটি
ছোট উদাহরণ:
কোনো
একটি দেশের অর্থনীতিতে যদি ১০টি আপেল থাকে এবং মোট ১০০ টাকা থাকে, তবে একটি আপেলের দাম ১০ টাকা। কিন্তু
সরকার যদি কোনো উৎপাদন না বাড়িয়ে আরও
১০০ টাকা ছাপায়, তবে ওই ১০টি আপেলের
জন্যই এখন ২০০ টাকা বাজারে ঘুরবে। ফলে একটি আপেলের দাম বেড়ে ২০ টাকা হয়ে
যাবে। অর্থাৎ, টাকার পরিমাণ বাড়লেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অর্ধেক হয়ে গেল।
মন্তব্য