Friday, February 6, 2026

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার এক সন্ধিক্ষণ

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার এক সন্ধিক্ষণ 



২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে, অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) মতো সংস্থাগুলো আগামী মাসগুলোতে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১. জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও বর্তমান গতিধারা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৪.৫০%। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের (২.৫৮%) তুলনায় কিছুটা বেশি। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর শেষে এই প্রবৃদ্ধি ৪.৬% এ পৌঁছাতে পারে। কৃষি, শিল্প ও সেবা—এই তিন খাতের পরিমিত সাফল্যের ওপর ভর করে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

২. মূল্যস্ফীতি ও জনজীবন

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম মূল্যস্ফীতি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৮.৪৯%। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে সংকুচিত করে ফেলেছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তান তাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সফল হলেও বাংলাদেশ এখনো এই সংকটে ভুগছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে এটি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে।

৩. বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স

  • রেমিট্যান্স: প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের শুরুটা বেশ ইতিবাচক। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর নীতিগত সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের সংখ্যা বাড়ার ফলে জুলাই-নভেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৭.১% প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

  • রপ্তানি: তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা থাকলেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বর্তমানে কিছুটা মন্থর (প্রায় ০.৬২%)। বিশ্ববাজারে চাহিদার পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

৪. ২০২৬-এর বড় মাইলফলক: এলডিসি (LDC) উত্তরণ

২০২৬ সালের নভেম্বর মাস বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সময়। এ বছরই বাংলাদেশ 'স্বল্পোন্নত দেশ' (LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশে চূড়ান্তভাবে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এটি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার সংকোচন এবং কিছু ক্ষেত্রে ভর্তুকি হ্রাসের মতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে।

৫. ব্যাংকিং খাত ও বিনিয়োগ

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের আধিক্য এবং তারল্য সংকট এখনো বিদ্যমান। তবে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাতে সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সুফল পেতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন।

1 comment:

"আমাদের সাথে শেয়ার করুন আপনার চিন্তাভাবনা..."