আগামী ১০ বছরের বিশ্ব অর্থনীতি: একটি ভবিষ্যৎচিত্র (২০২৬-২০৩৬)
আগামী এক দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রচলিত পশ্চিমা শক্তির আধিপত্য কমে এশিয়ার উত্থান এবং প্রযুক্তির বিপ্লব হবে এই সময়ের মূল বৈশিষ্ট্য।
১. এশীয় শতাব্দীর পূর্ণতা (The Rise of Asia)
আগামী ১০ বছরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সরে আসবে।
চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্র: ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চীন নামমাত্র জিডিপিতে (Nominal GDP) যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়ে থাকবে।
ভারতের উত্থান: ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে, যা জার্মানি এবং জাপানকে পেছনে ফেলে দেবে।
বাংলাদেশের অবস্থান: ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (বর্তমানে ৩৪তম)।
২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও কর্মসংস্থান
আগামী এক দশকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে AI এবং অটোমেশন।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: AI-এর কারণে বৈশ্বিক জিডিপি প্রায় ১৪% বৃদ্ধি পেতে পারে।
শ্রমবাজারের পরিবর্তন: অনেক প্রচলিত চাকরি হারিয়ে যাবে, কিন্তু ডেটা সায়েন্স, রোবোটিক্স এবং এআই ম্যানেজমেন্টে কয়েক কোটি নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
৩. গ্রিন ইকোনমি ও জ্বালানি রূপান্তর
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি জীবাশ্ম জ্বালানি (তেল, গ্যাস) থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে স্থায়ীভাবে ঝুঁকে পড়বে।
বিনিয়োগ: সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎ খাতে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে।
ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV): ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশে পেট্রোল-ডিজেল চালিত গাড়ি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, যা খনিজ তেলের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দেবে।
৪. ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যার প্রভাব
উন্নত বিশ্বের সংকট: ইউরোপ, জাপান এবং চীনের জনসংখ্যা বয়স্ক হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাবে।
উদীয়মান শক্তি: ভারত, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোর তরুণ জনশক্তি (Young Population) এই ১০ বছরে বৈশ্বিক উৎপাদনে নেতৃত্ব দেবে।
৫. প্রধান ৩টি যৌক্তিক চ্যালেঞ্জ (Risks)
আগামী ১০ বছরের পথচলা মসৃণ নাও হতে পারে। এর পেছনে ৩টি প্রধান কারণ কাজ করবে:
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক সংঘাত (যেমন ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্য) বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে বারবার বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
উচ্চ ঋণ: অনেক উন্নয়নশীল দেশ এবং এমনকি উন্নত দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা (Debt Burden) এত বাড়বে যে, বড় কোনো আর্থিক সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সাইবার ঝুঁকি: ডিজিটাল অর্থনীতি যত বাড়বে, বড় ধরনের সাইবার অ্যাটাক পুরো দেশের অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।
উপসংহার ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা
আগামী ১০ বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে এলডিসি (LDC) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে উচ্চ শুল্ক ও প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। তবে যদি আমরা প্রযুক্তিগত দক্ষতা (Technical Skill) বাড়াতে পারি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ঠিক রাখতে পারি, তবে ২০৩৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার পথে অনেকখানি এগিয়ে যাবে।







0 Comments:
Post a Comment
"আমাদের সাথে শেয়ার করুন আপনার চিন্তাভাবনা..."