আর্য সমাজ মূলত বেদমূলক সিদ্ধান্তের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর্য সমাজ প্রতিষ্ঠার পূর্বে সংগঠনের বাহ্যিক মান্যতারূপে স্বামী দয়ানন্দ ১০টি নীতি প্রণয়ন করেন। আর্য সমাজের সদস্যগণ নীতিগুলো মেনে চলেন। সংগঠনটি একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী এবং এর উপাসনা পদ্ধতি ষড়দর্শনের অন্যতম যোগদর্শের অষ্টাঙ্গযোগের উপরে প্রতিষ্ঠিত।
আর্য
সভ্যতা বা বৈদিক সভ্যতা
(আনুমানিক ১৫০০-৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)
সিন্ধু সভ্যতার পতনের পর ভারতে বিকশিত
একটি গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতি। মধ্য এশিয়া থেকে আগত আর্যরা বৈদিক সংস্কৃত ভাষা, বেদ, এবং বর্ণপ্রথা প্রবর্তন করে । এই সভ্যতা ঋগবৈদিক ও পরবর্তী বৈদিক যুগে বিভক্ত ছিল, যা আধুনিক ভারতীয় সংস্কৃতি ও হিন্দুধর্মের ভিত্তি স্থাপন করে
"আর্য"-এর পাণ্ডিত্য ও
জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি
তারা
দলবদ্ধ হয়ে অনেকগুলো পশু
সাথে নিয়ে ঘাস আচ্ছাদিত অঞ্চল
বা প্রদেশে গমন করতেন। পরে
সে স্থানের ঘাস পশু খাদ্য
হিসেবে নিঃশেষিত হলে তারা পুনরায়
অন্য অঞ্চল বা প্রদেশে যেতেন।
এভাবে তারা প্রতিনিয়ত এক
স্থান থেকে অন্য স্থানে
গমন করতেন বলে আর্য (অর্থাৎ
গমনশীল) নামে পরিচিত হয়েছেন।
আর্য
সভ্যতার মূল ইতিহাস ও
বৈশিষ্ট্য:
উৎপত্তি
ও আগমন: আর্যরা সম্ভবত মধ্য এশিয়ার বা
ইউরেশীয় স্টেপ অঞ্চল থেকে ইন্দো-ইরানীয়
ভাষাভাষী গোষ্ঠী হিসেবে ভারতে এসে বসতি স্থাপন
করেছিল । তারা সপ্তসিন্ধু
অঞ্চলে প্রথমে বসতি স্থাপন করে
এবং পরবর্তীতে গঙ্গা উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়ে ।
বৈদিক
যুগ: আর্যদের ইতিহাস প্রধানত বেদের উপর নির্ভরশীল, তাই
একে বৈদিক সভ্যতা বলা হয়। এই
যুগকে দুই ভাগে ভাগ
করা যায়:
ঋগবৈদিক
যুগ (১৫০০-১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ):
এই সময়ে সমাজ মূলত পশুপালন
ভিত্তিক ছিল, ঋগবেদ রচিত
হয় ।
পরবর্তী
বৈদিক যুগ (১০০০-৫০০
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ): সমাজ কৃষিনির্ভর হয়ে
ওঠে, সাম, যজু ও
অথর্ববেদ এবং উপনিষদ রচিত
হয় ।
সামাজিক
ও রাজনৈতিক জীবন:
বর্ণপ্রথা:
আর্য সমাজ মূলত ব্রাহ্মণ,
ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এই
চার ভাগে বিভক্ত ছিল
।
শাসনব্যবস্থা:
গোষ্ঠী বা গোত্রভিত্তিক শাসন
ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। গোত্রের প্রধানকে
'রাজা' বা 'গোষ্ঠীপতি' বলা
হতো ।
পরিবার:
সমাজ ছিল পিতৃতান্ত্রিক, তবে
নারীরা প্রাথমিক যুগে সম্মানজনক অবস্থানে
ছিলেন ।
অর্থনীতি
ও সংস্কৃতি:
অর্থনীতি:
কৃষি ছিল প্রধান পেশা,
সেইসাথে পশুপালন ও বাণিজ্য প্রচলিত
ছিল ।
ধর্ম:
আর্যরা ইন্দ্র, অগ্নি, বিষ্ণু, শিব ও ব্রহ্মার
উপাসনা করত এবং যজ্ঞ
ছিল তাদের প্রধান ধর্মীয় আচার ।
ভাষা:
বৈদিক সংস্কৃত ভাষা ছিল তাদের
যোগাযোগের মাধ্যম ।
স্থাপত্য:
আর্যদের শুরুর দিকের সভ্যতা ছিল গ্রামীণ এবং
বাড়িগুলো মূলত কাঠ ও
খড় দিয়ে তৈরি হতো, যা
সিন্ধু সভ্যতার নগর-কেন্দ্রিক সভ্যতার
থেকে ভিন্ন ছিল ।
পরবর্তীতে
আর্য সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু পাঞ্জাব থেকে সরে এসে
কুরু-পাঞ্চাল (বর্তমান দিল্লি ও উত্তর প্রদেশ
অঞ্চল) এলাকায় বিস্তৃত হয়







0 Comments:
Post a Comment
"আমাদের সাথে শেয়ার করুন আপনার চিন্তাভাবনা..."