পারিবারিক আইন কি ?
পারিবারিক আইন (Family Law) হলো আইনের এমন একটি ক্ষেত্র যা বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের হেফাজত (custody), ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং গার্হস্থ্য সহিংসতাসহ পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে । এটি মূলত পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করে ।
পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার কী কী?
পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের জন্য পারিবারিক আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, ঠিক কোন কোন বিষয়ে এই আদালতে মামলা করা যায়। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর অধীনে পারিবারিক আদালত মূলত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মামলা গ্রহণ, বিচার ও নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার রাখে।
পারিবারিক আইন কোন কোন বিষয়ের সাথে
সম্পর্কিত?
পারিবারিক আইন হল সেই আইন যা বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, হেফাজত এবং দত্তক নেওয়ার মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি রাজ্য থেকে রাজ্য এবং এমনকি প্রদেশ থেকে প্রদেশে আলাদা হতে পারে। এটি পরিবারের লোকজনের সাথে কীভাবে আচরণ করা হয় তাও প্রভাবিত করে, যেমন হেফাজত এবং দেখার অধিকার।
পারিবারিক আদালত কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
পারিবারিক আদালত আইন, 1984, ভারতের পার্লামেন্ট দ্বারা বিবাহ এবং পারিবারিক বিষয় সম্পর্কিত বিরোধগুলি সমঝোতামূলক পদ্ধতিতে সমাধানের জন্য পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত হয়েছিল।
পারিবারিক আদালত কেন মামলা
দায়ের করা যায়?
পারিবারিক আদালত সাধারণত সংকীর্ণ পারিবারিক সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের আদালতের একত্রীকরণ, যেমন শিশু আদালত এবং এতিম আদালত। পারিবারিক আদালত সাধারণ দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতের তুলনায় শিথিল পদ্ধতিতে কাজ করে।
পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এর ৫ ধারা কী সম্পর্কে?
পারিবারিক আদালত আইন,
২০২৩ এর ৫
ধারা,পারিবারিক আদালত
আইন, ২০২৩ এর
৫ ধারার অধীনস্ত
বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য
সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, দেনমোহর,
ভরণ-পোষণ এবং
শিশুদের অভিভাবকত্ব ও
হেফাজত এর বিষয়ের
বিরোধ, বাড়ীভাড়া নিয়ন্ত্রণ
আইন, ১৯৯১ এর
অধীনস্ত বিরোধ, বিজ্ঞ
সহকারী জজ আদালতের
ক্ষমতাধীন বন্টক সম্পর্কীয়
(পনের লক্ষ টাকা
পযর্ন্ত) বিরোধ, ৯৬
ধারা ও ২৪
ধারায় উল্লিখিত ।
পারিবারিক আইনের মূল দিকগুলো:
1.বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ: বিয়ের
বৈধতা, বিয়েবিচ্ছেদ, এবং
বৈবাহিক সম্পত্তি ভাগাভাগি
।
2.সন্তানের হেফাজত ও
ভরণপোষণ: সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ, কার
কাছে থাকবে, এবং
খরচের দায়িত্ব ।
3.উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি:
পারিবারিক সম্পদ ও
উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন
।
4.দত্তক গ্রহণ: আইনগতভাবে
শিশু গ্রহণ ।
5.গার্হস্থ্য সহিংসতা: পরিবারের
সদস্যদের নিরাপত্তা ও
আইনি সুরক্ষা ।
বাংলাদেশে ১৯৮৫ সালের
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ
(যা এখন পারিবারিক
আদালত আইন, ২০২৩
নামে পরিচিত) অনুযায়ী,
এই ধরনের পারিবারিক
বিষয়গুলোর বিচার নিষ্পত্তি
করা হয় ।
****পর্যায়ক্রমে পারিবারিক আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে






0 Comments:
Post a Comment
"আমাদের সাথে শেয়ার করুন আপনার চিন্তাভাবনা..."